July 10, 2026, 9:35 pm

মাদারীপুরে এমপি-ওসির সাথে একই মঞ্চে হত্যা মামলার আসামী

Reporter Name

শেখ সাজেদুল হক বোরাকঃ মাদারীপুরে আলোচিত আলমগীর হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান আসামী বিএনপি’র নেতা লাভলু হাওলাদার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাঁকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। সম্প্রতি আসামী লাভলু হাওলাদারকে একটি মাদকবিরোধী সমাবেশে সংসদ সদস্য ও মাদারীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে একই মঞ্চে অংশ নিতে দেখা গেছে। মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামী লাভলু বিএনপি’র নেতা হওয়ায় তাঁকে এমপি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এ কারণে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করছে না।
জানা যায়, হত্যা মামলার প্রধান আসামী লাভলু হাওলাদার (৫৩) জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী। গত ১১ মার্চ লাভলুর বিরুদ্ধে আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামী লাভলু হাওলাদার। এরপর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। দুই মাস ধরে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নানা অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে। গত ৩ জুলাই রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব জাহন্দার আলী মিয়া। তাঁর সাথে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতা লাভলু হাওলাদার। এছাড়াও ঐ একই মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
এদিকে আসামীরা প্রকাশ্যে এসে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আলমগীরের স্ত্রী ও মামলার বাদী রেখা বেগম। তিনি বলেন, ‘আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন এবং এলাকায় থাকতে পারছি না। বাড়িঘরও লুটপাট হয়ে গেছে। এলাকায় গেলে আমার একমাত্র ছেলেকে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশও তাদের ভয় পায়, কিছু বলে না।’
নিহত আলমগীর হাওলাদারের ছেলে আল-আমিন হাওলাদার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বাবার খুনিদের বিচার চাইতে গিয়ে আমরা এখন ঘর-বাড়ি ছাড়া। জামিন ছাড়া কিভাবে একটি হত্যা মামলার ১নং আসামী ঘুরে বেড়ায়? হাইকোর্টে তিনি জামিন চাইলেও তাকে জামিন দেওয়া হয় নাই। পুলিশকে আমরা আসামী ধরার বিষয় তথ্য দিলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। মামলার প্রধান আসামী লাভলু হাওলাদারকে স্বয়ং এমপি প্রশ্রয় দিচ্ছে। এ কারণে পুলিশও তাকে গ্রেফতার করছে না। আমি শুধু আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে লাভলু হাওলাদার মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি আমাকে চিনেন না? চিনেন তো অবশ্যই। আপনি সামনাসামনি আসেন। আমি অফিসে আছি, আপনি আসেন।’
একই মঞ্চে হত্যা মামলার আসামীর সাথে মাদকবিরোধী সমাবেশে থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি কোনো লাভলু-ঠাবলু কাউকে চিনি না। তবে লাভলুর নাম শুনছি। কিন্তু ব্যক্তি হিসাবে আমি তাকে চিনি না। এমপি সাহেবের সাথে মঞ্চে কারা ছিলো, তাও মনে নাই। লাভলুকে গ্রেফতারের বিষয় তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে পারবে।’
এ সম্পর্কে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মহসীন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আলমগীর হত্যা মামলার প্রধান আসামী লাভলু হাওলাদার শুনেছি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। তবে তার কোনো কাগজপত্র আমরা পাইনি। এই মামলায় ৬৮ জন আগাম জামিন নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে লাভলু হাওলাদারের নামও নেই।’ আসামী প্রকাশ্যে ঘুওে বেড়ানোর বিষয় তিনি বলেন, ‘তাঁর (আসামী লাভলু) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান আছে। তাঁকে আমরা এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারিনি। তিনি আমাদের কাছে পলাতক। মামলার বাদী বা তাঁর পরিবারকে কোনো হুমকির বিষয় আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। যদি বাদী অভিযোগ করেন, তাহলে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব।’
এখানে উল্লেখ্য যে, গত ১০ মার্চ মাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় ঘরে ঢুকে আলমগীর হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু হাওলাদারকে প্রধান করে ৮৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামী করা হয়। এ ঘটনার পরে নতুন মাদারীপুর এলাকায় অন্তত ১০ বার উভয় পক্ষেও লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুন দিয়ে শতাধিক বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা