সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টানা তৃতীয়বার এনএসইউ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান খান বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় চালককে কলাপাড়া থেকে ধরে এনে জিম্মি, সাজানো হলো নাটক রাজৈরে আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা লিবিয়ায় বাবার নির্যাতনের ভিডিও দেখে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা, নিঃস্ব শতাধিক পরিবার মাদারীপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন প্রশাসনের উপস্থিতিতে যৌথ সীমানা নির্ধারণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের নেপথ্য রাজৈরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর স্ত্রীকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ স্ব-নামধন্য সাংবাদিক শেখ সাজেদুল হক বোরাককে গুলি করে হত্যার হুমকি মাদারীপুরে স্কুলছাত্রের ওপর হামলার অভিযোগ, দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর আটক যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, আহত ১৫

৬০ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি বাংলাদেশীর, গুলি করে হত্যা!

আলহাজ্ব এমারাত আকন

আলহাজ্ব এমারাত আকনঃ

রং মিস্ত্রীর কাজ করে আয় হতো সামান্যই। এই আয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মাদারীপুরের রাজৈরের সোহাগ মুন্সী তাই জমি বিক্রি করে, ধার করে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। হয়তো ভেবেছিলেন, একবার বিদেশে যেতে পারলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। কিন্তু পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে এক বছরের মধ্যে বেঘোরে প্রাণ হারালেন। সেই সঙ্গে নিঃস্ব হলো পুরো পরিবার।

অবৈধভাবে ইতালি যাবার পথে দালালদের ৬০ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি সোহাগ মুন্সীর। আরও ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় গুলি করে হত্যার পর গুম করা হয়েছে তাঁর মরদেহ। এই খবর পেয়ে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। প্রিয় সন্তানের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী। স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের হাতে ২২ লাখ টাকা তুলে দেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ মুন্সী। প্রথমে তাঁকে সৌদি আরব ও পরে লিবিয়ার ত্রিপলি নিয়ে বন্দী করে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরও ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র। একপর্যায়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আরও দুই লাখ টাকা চান দালাল চক্র। পরে সোহাগকে ফেরত না পাঠিয়ে ২৩ জুলাই দাবি করা হয় আরও ২৭ লাখ টাকা। ২৪ জুলাই সকাল ৮টার মধ্যে টাকা দিতে বলেন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী মাফিয়ারা।

২৯ জুলাই দালালদের মাধ্যমেই সোহাগের মৃত্যুর খবর পান তাঁর পরিবার। এই খবরে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘জমি বেচে, ধার করে ৬০ লাখ টাকা দিয়েও আমার ছেলেরে বাঁচাতে পারলাম না। এখন আমার ছেলের লাশটা যেন একটু দেখতে পারি, সেই ব্যবস্থা করেন। দালালদের ফাঁসি দেন।’

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকি আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান। তবে মূল হোতারা অধিকাংশই দেশের বাইরে থাকায় ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা দেশে আছে, তাঁরা প্রতি মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করছে। যে কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা