শেখ সাজেদুল হক বোরাক :
মাদারীপুর জেলাধীন রাজৈর উপজেলার ইসুবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় গ্রামে একটি বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উঠেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ৪ জন পেশাদার সার্ভেয়ার (আমিন) এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ আইনি ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জমি মেপে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের বাসিন্দা মান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগমের একটি বিরোধপূর্ণ জমি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের লক্ষ্যে এই যৌথ মাপজোখের আয়োজন করা হয়। সীমানা নির্ধারণকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার, সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তি, উভয় পক্ষের লোকজন এবং নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষসহ প্রায় ১২০ জন মানুষের উপস্থিতি ছিল।
সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৪ জন সার্ভেয়ার মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এ বিশাল আয়োজনের খাবার খরচ এবং আনুষঙ্গিক যাতায়াত ব্যয় বাবদ মোট খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। স্থানীয় সামাজিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ওই খরচ উভয় পক্ষ অর্থাৎ তানজিল মোল্লার ২৫ হাজার টাকা এবং মান্নান মোল্লার ২৫ হাজার টাকা করে সমানভাগে বহন করেন। এক পক্ষ জমির মালিক মান্নান মোল্লার স্ত্রী কোহিনূর বেগম পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে অভিযোগ তোলেন যে, এটি নাকি ‘৭০ হাজার টাকার চাঁদা’ এবং ওই টাকা সাংবাদিক শেখ মোস্তাফিজুল হক নাদির নিয়েছেন।
অথচ সাংবাদিক শেখ মোস্তাফিজুল হক নাদির টাকার বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না। তিনি মনগড়া মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে কিছু অপেশাদার ও অশিক্ষিত মোবাইল সাংবাদিকদের ৫০০/১০০০ টাকা দিয়ে তা প্রচার করেছেন। তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন সাংবাদিক শেখ মোস্তাফিজুল হক নাদির।
এছাড়া উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১২০ জন মানুষের খাবার ও যাতায়াত খরচ এবং ৪ জন পেশাদার আমিনের কাজের ফি সামাজিকভাবেই সংগৃহীত ও ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি এখনো পর্যন্ত মান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগমের কাছে বাবুর্চির মজুরি ও এক আমিনের পাওনা বাবদ ৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে, যা তিনি পরিশোধ করেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম অসামাজিক লোক। তাদের বেয়াদব বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন শাখারপাড় গ্রামের জনগণ। আইন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সঠিক মেপে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও এ ধরনের বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া একটি অসৎ মানসিকতার পরিচয়। নিজেদের অসদাচরণ ও সত্য গোপনের অভ্যাসের কারণেই স্থানীয় শাখারপাড় গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ পরিবারটিকে সামাজিকভাবে এড়িয়ে চলে। যার কারণে বিবাহযোগ্য ৬ জন মেয়ে থাকা সত্বেও কেউ বিয়ে করছেন না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নিরপেক্ষ ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক নেতারা জানান, সঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপে একটি দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিক ও প্রশাসনের উপর মিথ্যা দায় চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।