শেখ আসাদুল হক সনেট :
মাদারীপুর জেলাধীন মস্তফাপুর (সাধুর ব্রিজ) হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের দাবি করা ঘুষের ৩০ হাজার টাকা না পেয়ে পণ্যবাহী ট্রাকের ব্যাটারি চুরির ঘটনা আড়াল করতে এবার নজিরবিহীন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পের অভিযুক্ত একটি অসাধু চক্র। মূল ঘটনার ভিডিও ধারণকারী এবং দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী যোগাযোগ মাধ্যম মাদারীপুর মিরর এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাসুদ হোসেন খানকে যেখানে তদন্তের স্বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে তলব করা হয়েছে, ঠিক তার পেছনেই উন্মোচিত হয়েছে অভিযুক্তদের সাজানো এক নাটকের অকাট্য প্রমাণ। সাংবাদিকদের হাতে এসেছে ভুক্তভোগী ট্রাকচালক মোঃ সিদ্দিককে জিম্মি করে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করার সেই অডিও কল রেকর্ড।
তবে সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, বাহিনীর দুই/একজন অসাধু সদস্যের এমন অপকর্মের দায় কোনোভাবেই গোটা পুলিশ বাহিনীর উপর বর্তায় না। যেখানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদেও ক্লোজড করেছে, সেখানে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ক্যাম্পের নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্য এই নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।
সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি অডিও কল রেকর্ডে ভুক্তভোগী ট্রাকচালক সিদ্দিককে অত্যন্ত আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত শোনা যায়। চালক সিদ্দিকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মস্তফাপুর ক্যাম্পের ক্লোজড হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতে ক্যাম্পের অপর ৩ জন অভিযুক্ত সদস্য ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। ভিডিওটি দেশজুড়ে ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নির্দিষ্ট সদস্যরা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চালকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন ট্রাকিং শুরু করে। ঘটনার ২দিন পর রাতে তার অবস্থান শনাক্ত করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে গভীর রাতে তাকে জোরপূর্বক তুলে এনে সাধুর ব্রিজ হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পে বন্দী করে রাখা হয়।
সারারাত আটকে রেখে চালকের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তদের লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী ক্যামেরার সামনে একটি মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। অডিও রেকর্ডে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, মাদারীপুর মিররের অকাট্য ভিডিওর মূল সত্যটিকে আড়াল করতেই ওই চক্রটি কিছু সুবিধাবাদী ও তথাকথিত সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এই সাজানো পাল্টা সংবাদ প্রকাশের অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার মূল স্বাক্ষী ও ভিডিও ধারণকারী সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খানকে সরকারিভাবে তলব করেছে ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশ সার্কেল।
ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয়ের স্মারক নং ৪৪.০১.২৯০০.০০১.০৭.০০২.২৬-১৫০১, তারিখ- ৩০.০৯.২০২৬ খ্রি. এর সূত্র ধরে প্রেরিত নোটিশের নির্দেশ মোতাবেক, সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খানকে আগামী ১১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় ফরিদপুর হাইওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান ও বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য বলা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মস্তফাপুর হাইওয়ে ক্যাম্পের এসআই আনোয়ারুল ইসলাম ও কনস্টেবল সজীব হোসেন পণ্যবাহী ট্রাক চালক সিদ্দিকের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করে। চালক ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকাশ্য দিবালোকে ট্রাকের ব্যাটারি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। যা মাদারীপুর মিররের ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং ভিডিওটি প্রচারিত হলে হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে ফরিদপুর রিজনে প্রত্যাহার করে। কিন্তু বিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়ার পরপরই নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এই নতুন অপহরণ ও জিম্মি করার খেলায় মেতে উঠে ক্যাম্পের ওই অভিযুক্ত চক্রটি।