মামুন হাওলাদারঃ
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের ইকবাল জমাদ্দারের ছেলে রবিউল রহমান মুন্নাকে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে সৌদি আরবে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় আলেয়া বেগম, তাঁর স্বামী আজাদ দর্জিসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্তদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তাঁরা।
পরিবারের দাবি, গত বছরের ২৭ আগস্ট ইতালি পাঠানোর কথা বলে মুন্নাকে লিবিয়ায় নেওয়ার পরিবর্তে সৌদি আরবে নিয়ে একটি ভবনে আটকে রাখে মানবপাচারকারী চক্র। পরে তাঁকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে দেরি হলে মুন্নাকে মারধর করা হয়। ভিডিও কলে তাঁকে পেটানোর দৃশ্য দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়। পরে ওই টাকা দিয়ে চলতি বছরের ২৫ মার্চ মুন্নাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা ইকবাল জমাদ্দার বলেন, ইতালি পাঠানোর কথা বলে আজাদ দর্জি ও তাঁর লোকজন তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু ছেলেকে ইতালি না পাঠিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। মামলা করার পর তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি ক্ষতিপূরণসহ অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় ইকবাল জমাদ্দার বাদী হয়ে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর থানায় পাঠানো হয়। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযোগের বিষয়ে আজাদ দর্জি ও অন্য আসামিদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা তাঁদের পলাতক দাবি করলেও এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কামাল আজাদ বলেন, আদালত থেকে একটি পিটিশন মামলা এসেছে। মামলাটি এসআই মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত করছেন। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অন্যায়ের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকবে না।