শেখ সাজেদুল হক বোরাক:
মাদারীপুর জেলাধীন রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট পপুলার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরাজি প্রভাষক হিসাবে আলী আহমদ আকনের নিয়োগ বৈধ নয় বলে দাবী করেছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শন দল। পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মন্ডল ও অডিটর মো. ওয়াহেদুল হক গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে অত্র প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষাকালে শিক্ষক নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, আর্থিক লেনদেন ও শিক্ষা কার্যক্রমে বেশ কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিভিন্ন ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রভাষক (ইংরেজি) আলী আহমদ আকন গত ২০০৫ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে প্রতিবেদনে তাঁর ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সনদের গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তিনি বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাওয়ার যোগ্য নন বলে প্রতিবেদনে মতামত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট ২০০৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত তাঁর নামে সরকারি অংশের বেতন-ভাতা বাবদ গৃহীত মোট ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ এর পরও গৃহীত অর্থ ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইংরেজি প্রভাষক আলী আহমদ আকন এই প্রতিবেদককে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কারণ তিনি নিবন্ধন পরিক্ষা দিয়ে ২০০৬ সালে কামিল মাদ্রাসায় ইংরাজী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন এবং ২০০৭ সালে তাঁর সরকারি অংশের বিল হয়। পরে ২০০৯ সালে টেকেরহাট পপুলার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ইন্টারভিউ দিয়ে পুনরায় যোগদান করেন। যোগদানের পর ২০১৪ সালে একটি অডিট হয়, সেখানে কারো কোন কাগজপত্রে ঝামেলা ছিল না এবং ২০২২ সালেও একটি অডিট হয়েছিল তাতে কারো কোন ঝামেলা হয়নি বলে তিনি বলেন। এখন ২০২৫ সালে এসে তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে ঝামেলা রয়েছে মর্মে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে তিনি দাবী করেন।

এ সময় পরিদর্শনে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ম্যাপ, বিভিন্ন চার্ট, গ্লোবসহ শিক্ষা সহায়ক উপকরণ নিয়মিত ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মাসিক, সাময়িক ও বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষার সঠিকভাবে গণনা ও বাস্তবায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণীর দুর্বল ও অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয় না এবং তাদের জন্য বিশেষ পাঠদান কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয় না। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মতবিনিময় সভা আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিরীক্ষায় আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন ধরনের ফি, বেতন, নিজস্ব সম্পদ খাতের আয়, দান ও অনুদান ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় করা হয় না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ভ্যাট বাবদ ৮৭ হাজার ৯০২ টাকা ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে স্টক টেকিং কমিটি নেই এবং বার্ষিক স্টক টেকিংও করা হয় না।
তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখপূর্বক সুপারিশ এবং আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।