মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই প্লাটফর্ম উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে। CIRS-এর মাধ্যমে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সহজে সাইবার ঘটনার রিপোর্ট করতে পারবে এবং দ্রুত প্রতিকার পাবে। অন্যদিকে NCRS সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়ন ও উন্নয়নে সহায়তা করবে।
এই উদ্যোগগুলো দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলেও মন্ত্রী জানান।
সাইবার নিরাপত্তা আইন পাসের পর বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার নতুন যাত্রা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। । তিনি বলেন, আজকের উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা শুধু সরকারের নয়, নাগরিক, বেসরকারি খাত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার রোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ব্যাংকিং, আর্থিক খাত এবং সরকারি তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে সাইবার ঝুঁকি আরও বাড়বে, তাই এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রধান ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, CIRS প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা সাইবার-সংক্রান্ত ঘটনা দ্রুত ও কাঠামোবদ্ধভাবে রিপোর্ট করতে পারবেন। প্রতিটি রিপোর্ট যাচাই, বিশ্লেষণ, এসকেলেশন, প্রতিক্রিয়া, মনিটরিং ও নিষ্পত্তির সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, NRS দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইটি, তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য একটি জাতীয় রেটিং ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। National ICT and Cyber Security Maturity Rating Framework-এর ভিত্তিতে চারটি মূল স্তম্ভ এবং ১৩১টি নির্ণায়কের আলোকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে A থেকে E গ্রেডে মূল্যায়ন করা হবে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, CIRS ও NRS বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সাইবার স্থিতিস্থাপকতা, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ আরও শক্তিশালী হবে এবং নিরাপদ, আস্থাশীল ও সহনশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী(অব.), বিভিন্ন অংশীজন এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।