শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদারীপুর জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে পুকুরে ডুবে ২ জমজ বোনের মৃত্যু মাদারীপুরে মটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ : নারী-শিশুসহ আহত ৬ নিখোঁজের পরদিন মিলল বস্তাবন্দি মরদেহ: অভিনেত্রী শিমু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যা ঘটেছিল বগুড়ার ১৩ উপজেলায় হবে মিনি স্টেডিয়াম: প্রতিমন্ত্রী ‘গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি আবদুস শহিদ’ মাদারীপুরে সর্বজনীন পেনশন মেলা, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিবচরে মাকে হত্যা, ৫ দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদে মিলল শিশুর অর্ধগলিত লাশ এবার সালমান শাহ হত্যা মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন ডলি জহুর বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক উৎসব

নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি?

শেখ আসাদুল হক সনেট, সাধারণ সম্পাদক, রাজৈর প্রেসক্লাব

শেখ আসাদুল হক সনেট:

সাধারণ সম্পাদক, রাজৈর প্রেসক্লাব

নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি? এই প্রশ্ন সচেতন মানুষের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশের পেক্ষাপটে গণতন্ত্রের বিষয়ে অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয়। গণতন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো কোন অবস্থাও নাই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া এই দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি প্রচন্ড দাপটের সঙ্গে তাদের শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছে। যা জনমনে আতংঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাহলে দেশে নিরাপত্তা কোথায়?

আমরা এমন একটা দেশে বাস করি, যেখানে পরমতসহিষ্ণুতা একেবারেই নাই। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া আমরা একে অন্যকে নিকৃষ্ট কোনো অভিধায় অভিসিক্ত করতে পারি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পছন্দ না হলেই যে কাউকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ তকমা লাগিয়ে দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন ‘ফ্যাসিবাদির দোসর’ তকমাটি তার জায়গা নিয়েছে। গুণগতভাবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুটো অভিধায়ই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এক মোক্ষম অস্ত্র। যার কারণে সাধারণ মানুষ খুবই বিরক্ত। কিন্তু আমজনতার কথা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শুধু নির্বাচনের আগে গুরুত্ব দেয়। আর বাকি সময় নিজেদের মতোই চলে।

এত বড় একটা গণ-অভ্যুত্থান হয়ে গেল, কিন্তু চলন বলনে বা রাজনীতিতে কি কোনো উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে? কারও কারও মনে আছে কি না, বিএনপি বা জামায়াতকে ঘায়েল করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী পক্ষের আহূত জনসভার একই স্থানে সরকার পক্ষের জনসভার আয়োজন করে ১৪৪ ধারা জারি করা হতো। আর এখন! আওয়ামী লীগ ফিরে আসা ঠেকাতে বিএনপি ও জামায়াত যে কাজগুলো করছে, তাকেও তো একই অভিধায় দেওয়া যায়।

২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে যা যা ঘটেছে, তা কি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না? ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ বোঝেনি তারা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এবং জামায়াত-এনসিপি বিরোধী দলে থেকেও বুঝতে পারছে না, তারা গণতন্ত্রকেই বাধাগ্রস্ত করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন রাজনৈতিক দলগুলোও সক্রিয়। এর মাঝে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে সাংবাদিক পেটানো হয়। সাংবাদিকদের প্রহার করার যে ঘটনা জামায়াত ঘটিয়েছে, তা যে ন্যক্কারজনক, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। এ ঘটনায় জামায়াত ৪ জনকে বহিষ্কার করেছে। এই বহিষ্কারের কোনো অর্থ আছে কি? তাতে কি অপমানিত, অপদস্ত, নির্যাতিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সুবিচার করা হলো! যখন ইচ্ছে রুটিন করে সাংবাদিক পিটিয়ে বহিষ্কারের মাধ্যমে সবকিছু ঠিকঠাক করা ইত্যাদি রাজনৈতিক দলগুলোর মনে বারবার জাগবে না? এই মারপিট কতটা নিষ্ঠুরতার সঙ্গে করা হয়েছে তা ভিডিওতেই দেখা গেছে।

তাছাড়া জনগণের মাঝেও মব-জাস্টিস শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন জামায়াতের এই কাজ এর পর তীব্র সমালোচনা- মূলক মন্তব্য করছেন, তখন জামায়াতও একটি কৌশলী খেলা খেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের চালানো সাংবাদিক নির্যাতনের একটি চিত্র প্রকাশ করেছেন। দেখা যাচ্ছে, গুলশানে, ত্রিশালে, পটিয়ায় এবং রাজশাহীতে কীভাবে বিএনপি, ছাত্রদল নেতারা সাংবাদিক পিটিয়েছেন। এতে প্রমাণ হয় সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি-জামায়াত সাংবাদিকদের নির্যাতন করেছেন। কোন দলই তাদের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না। তাঁরা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হচ্ছেন।

এতে কি গণতন্ত্র তার স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পায়? নাকি প্রতিটি রাজনৈতিক দলই সুযোগ পেলে একই রকম অপকর্ম করার চেষ্টা করেন। বিএনপির অপকর্ম জামায়াত দেখিয়ে দিচ্ছে এবং জামায়াতের অপকর্ম বিএনপি দেখিয়ে দিচ্ছে। এতে দলগুলোর সম্পর্কে জনমনে ভালো কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, যাঁরা নির্যাতিত হচ্ছেন, তাঁরা কোনো ভাবেই সুবিচার পাচ্ছেন না। গণতন্ত্রে যেমন আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি গুরুত্ব রয়েছে গণমাধ্যমের। গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।

অথচ সাংবাদিকরা কি ঠিকভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন? অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের একটি অংশকে দেখা যায়, কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ত্ব করছেন। সাংবাদিকরা এ দেশের নাগরিক। তাই তিনি যেকোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হতেই পারেন। কিন্তু তাঁর সেই সমর্থন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে স্পর্শ করবে না, সেটাই আরাধ্য। কিন্তু অনেক সাংবাদিকই যা করে থাকেন তা সরাসরি চাটুকারিতায় পর্যবসিত হয়। কিন্তু তাই বলে জামায়াতের দেওয়া বিএনপি-ছাত্রদলের সাংবাদিক পেটানো কিংবা স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে জামায়াতের সাংবাদিক পেটানো কি কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে? নিয়মনীতি ভঙ্গ করেই সাংবাদিক পিটিয়েছেন। যে দেশে ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এ রকম নৃশংস আচরণ করতে পারে। সেই দেশে সত্যিই কি গণতন্ত্র নিরাপদ? নাকি পেশী শক্তির ভাষাই গণতন্ত্র।

নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন কথা হচ্ছে, তখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে দাঁড়ায়! ১। আগামী নির্বাচনগুলো কেমন হবে বলে মনে হয়? ২। আদৌ কি তাতে জনগণ ভোট দিতে পারবে? ৩। আমাদের দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি রয়েছে? ৪। মানবাধিকার পরিস্থিতি কি হবে? ৫। যত দিন ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে মানুষ হত্যা কিংবা নির্যাতন চলতে থাকবে, তত দিন পর্যন্ত কি গণতন্ত্রের সুবাতাস বইবে? ৬। দেশে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

অবশেষে একটি অমানবিক ও নিষ্ঠুর হামলার ঘটনা বর্ণনা করে আমার লেখা শেষ করবো, সম্প্রতি মাদারীপুর জেলাধীন রাজৈর উপজেলায় গত ২৬শে মে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় রাজৈর বাজারে অবস্থিত জুবলী ক্লাবের সামনে প্রকাশ্যে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর খানকে অবরুদ্ধ করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে থেঁতলে দেয় মাজহারুল ও তার বাহিনী। তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে উপস্থিত সাধারণ মানুষ বাঁধা দেওয়ার সাহস পায়নি, বরং এই বর্বরোচিত দৃশ্য দেখে থমকে যায় পুরো রাজৈরবাসী।

এ সময় প্রকাশ্য বাজারে এই নৃশংস হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকা জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অকারণে সাবেক ইউপি সদস্য ও রাজৈর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর খানের উপর অযাচিত হামলায় মনে করিয়ে দেয়, এ দেশে কি নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর খানের উপর এ ধরনের হামলা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তাহলে নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি? যদি বলি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র দু’টই এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে আছে, তাহলে কি খুব একটা, ভুল কিছু বলা হবে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা